১৪ মার্চ আসানসোল ও দুর্গাপুর আদালত চত্বরে জাতীয় লোক আদালতএকদিনেই মামলার নিষ্পত্তি, আইনজীবী ছাড়াই শুনানির সুযোগ

আম্রপালি চকর্বতী আধিকারি

পাবলিক নিউজঃ আলোক চক্রবর্তী পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল:
আগামী ১৪ মার্চ আসানসোল ও দুর্গাপুর আদালত চত্বরে জাতীয় লোক আদালত বসতে চলেছে। এই উপলক্ষে বুধবার একটি সংবাদ সম্মেলন করে লোক আদালত সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
আমরাপালি চক্রবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানানো , লোক আদালতে এমন একাধিক দেওয়ানি মামলার শুনানি হতে পারে, যেগুলি এখনও আদালতে দায়ের করা হয়নি অথবা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি মোটর ভেহিকেল অ্যাক্ট সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানিও লোক আদালতে করা হয়ে থাকে।
তালাকের মামলা বাদ দিয়ে বিবাহ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়, যেমন পারিবারিক বিবাদ বা সমঝোতার মামলাও লোক আদালতের আওতায় আনা যেতে পারে। এছাড়াও যেসব ব্যক্তি ব্যাঙ্ক ঋণের ইএমআই পরিশোধ করতে পারছেন না, সেই সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তিও লোক আদালতের মাধ্যমে করা সম্ভব।
লোক আদালতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, এখানে মামলা পেশ করার জন্য আইনজীবী থাকা বাধ্যতামূলক নয়। যে কোনও ব্যক্তি নিজেই উপস্থিত হয়ে নিজের মামলার শুনানিতে অংশ নিতে পারেন।
যেসব মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলি লোক আদালতে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন জানাতে হয়। আদালতের অনুমোদন মিললে সেই মামলা লোক আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়।
অন্যদিকে, যেসব মামলা এখনও আদালতে দায়ের হয়নি, সেগুলির শুনানি লোক আদালতে করাতে চাইলে ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সেল (জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সেলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত বছর পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অনুষ্ঠিত লোক আদালতে ১০ হাজারেরও বেশি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল, যার মাধ্যমে প্রায় ১৪ কোটি টাকার স্যাটেলমেন্ট সম্পন্ন হয়।
লোক আদালতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, একই দিনে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে মামলার নিষ্পত্তি হয়, ফলে সাধারণ মানুষ সময়, অর্থ ও দীর্ঘ আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পান।

শবে-বরাতের আগে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিকল্প উদ্যোগ, সাফাইকর্মীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আবেদন কংগ্রেস কাউন্সিলরের

পাবলিক নিউজঃ আসানসোল:
নিজেদের বিভিন্ন দাবির সমর্থনে আসানসোল পুরনিগমের সাফাইকর্মীরা বর্তমানে ধর্মঘটে রয়েছেন। আজ মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র উৎসব শবে-বরাত। এই উৎসবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও সাফাইকর্মীদের ধর্মঘটের ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আসানসোল পুরনিগমের কংগ্রেস কাউন্সিলর এস. এম. মুস্তফা তাঁর ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় কিছু শ্রমিককে ভাড়ায় নিয়োগ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হয়েছে, যাতে শবে-বরাতের আগে মসজিদ, কবরস্থান ও সংলগ্ন এলাকাগুলি পরিষ্কার রাখা যায়।
কংগ্রেস কাউন্সিলর এস. এম. মুস্তফা বলেন, ধর্মঘট কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। তিনি জানান, আগের দিন তিনি পুরনিগমে গিয়ে সাফাইকর্মীদের কাছে হাতজোড় করে আবেদন করেছিলেন, যাতে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজেন।
কাউন্সিলরের কথায়, সাফাইকর্মীরা তাঁকে জানিয়েছেন যে তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা এখনও মেলেনি এবং তাঁরা ১৫ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন দাবি করছেন। এই বিষয়ে তিনি স্যানিটেশন ডিপার্টমেন্টের এমএমআইসি মানস দাসের সঙ্গে কথা বললে, মানস দাস জানান যে কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে পিএফের টাকা আটকে রয়েছে, তবে খুব শীঘ্রই সেই সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হবে।
১৫ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবির প্রসঙ্গে এস. এম. মুস্তফা সাফাইকর্মীদের পরামর্শ দেন, তারা যেন কোনও একটি প্রধান দাবি নিয়ে পুরনিগমের মেয়রের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, কারণ এই ধর্মঘটের ফলে সাধারণ মানুষকে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ABMA-র উদ্যোগে ওজন ও মাপ নবীকরণ শিবির, উপকৃত ১২৫ জন ব্যবসায়ী

পাবলিক নিউজঃ আসানসোল। আসানসোল বুলিয়ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ABMA)-এর উদ্যোগে মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ঘণ্টি গলিতে অবস্থিত ABMA অফিসে একটি ওজন ও মাপ নবীকরণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
এই শিবিরটি মেট্রোলজি ডিপার্টমেন্টের তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হয়। শিবিরে প্রায় ১২৫ জন স্বর্ণ ও গয়না ব্যবসায়ী তাঁদের ওজন ও মাপ সংক্রান্ত যন্ত্র নবীকরণ করান। এর মাধ্যমে প্রায় ৮০,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে।
শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ABMA-র সভাপতি শ্রী সুনীল মুকিম, সচিব শ্রী আনন্দ আগরওয়াল্লা, কোষাধ্যক্ষ শ্রী প্রভাষ গুপ্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শঙ্কর গুপ্ত, শ্যামল চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ শর্মা, বিনোদ গুপ্ত, অশোকজি সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
এই শিবির সফলভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আসানসোল বুলিয়ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, আসানসোল জুয়েলারি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং স্বর্ণ শিল্পী সমিতি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিবিরের আয়োজন করা হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা সহজেই সরকারি নিয়ম মেনে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

টোটো চালক ও শিশুকে মারধরের অভিযোগে উত্তপ্ত শ্যামবাঁধবিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের ভাঙচুর, হীরাপুর থানায় ঘেরাও

পশ্চিম বর্ধমানের বার্নপুর। হীরাপুর থানার অন্তর্গত শ্যামবাঁধ এলাকায় বুধবার দুপুরে এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বর্ধথোল ও শ্যামবাঁধ এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হলেও সন্ধ্যা গড়াতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
জানা গেছে, বর্ধথোল এলাকার এক মহিলা তাঁর দুই শিশুকে নিয়ে টোটোতে করে শ্যামবাঁধ হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় জাগৃতি ক্লাব সংলগ্ন একটি চপের দোকানের সামনে টোটোটি গর্তে পড়ে যাওয়ায় নোংরা জল দোকানের সামনে বসে থাকা কয়েকজনের গায়ে ছিটকে পড়ে। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সেখানে উপস্থিত লোকজন। অভিযোগ, তারা প্রথমে টোটো চালককে মারধর করে এবং পরে ওই মহিলার কোলে থাকা শিশু ও তাঁর পাঁচ বছরের ছেলেকেও মারধর করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বর্ধথোল গ্রাম থেকে মহিলার আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীরা লাঠি-ডান্ডা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর উত্তেজিত জনতা প্রথমে চপের দোকানে ও পরে সংলগ্ন জাগৃতি ক্লাবে ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হীরাপুর থানার পুলিশ। টোটো চালক ও শিশু মারধরের ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সন্ধ্যায় বর্ধথোল গ্রাম থেকে শতাধিক মহিলা, পুরুষ ও যুবক হীরাপুর থানায় পৌঁছে অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবিতে থানাঘেরাও শুরু করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসিপি ইপশিতা দত্ত, সিআই অশোক সিং মহাপাত্র এবং বরো চেয়ারম্যান শিবানন্দ বাউরি। এসিপি ইপশিতা দত্ত গ্রামবাসীদের আশ্বাস দেন যে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছিল।

আসানসোল প্রাইড রান ২০২৬: প্রয়াত সমাজসেবী বুলু চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে দৌড়ে অংশ নিল শতাধিক পড়ুয়াআসানসোল।


পাবলিক নিউজ ডেস্ক আসানসোল:-রবিবার আসানসোল শহরে অনুষ্ঠিত হল আসানসোল প্রাইড রান ২০২৬। শহরের বিভিন্ন স্কুলের শতাধিক ছাত্রছাত্রী এই ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রয়াত সমাজসেবী বুলু চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই দৌড়ের আয়োজন করা হয়।
দৌড়ের সূচনা হয় পোলো গ্রাউন্ড থেকে এবং তা শেষ হয় পি.সি. চট্টোপাধ্যায় মার্কেট, মুরগাশোল এলাকায়। দৌড় চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
দৌড় শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইন ও শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পুরনিগমের এমএমআইসি গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আসানসোল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর প্রধান উপদেষ্টা সচিন্দ্রনাথ রায়, প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান সতপাল সিং কীর (পিঙ্কি) এবং কো-অর্ডিনেটর মনোজ কুমার সাহা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ধরনের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে খেলাধুলার মানসিকতা, শারীরিক সুস্থতা, শৃঙ্খলা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

সরকারি অবৈতনিক প্রাইমারি স্কুলের পড়ুয়াদের স্কুল মূখী করার লক্ষে অভিনব প্রয়াস প্রধান শিক্ষিকার।

পাবলিক নিউজ ডেস্ক আসানসোল:–এক অভিনব প্রয়াস যা পশ্চিম বর্ধমান জেলার শুধু নয় গোটা বাংলার কোন সরকারি অবৈতনিক প্রাইমারি স্কুলে দেখা যায় নি সেটা করে দেখালেন চিত্তরঞ্জন সার্কেলের পর্ব্বতপুর মোহনপুর কোলিয়ারীর অবৈতনিক প্রাইমারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুনন্দা পাল ( দত্ত) এবং শিক্ষক দেব কুমার বন্দোপাধ্যায়। গ্রামাঞ্চলে বেশীরভাগ প্রাইমারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে স্কুল ছুটের সংখ্যা ক্রমশঃ বেড়ে যাওয়াতে সরকার বিশেষ চিন্তিত সাথে স্কুলের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকারা। চিত্তরঞ্জন সার্কেলের পর্ব্বতপুর মোহনপুর কোলিয়ারীর অবৈতনিক প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুনন্দা পাল ( দত্ত ) জানান আমাদের রাজ্যে বেশীরভাগ সরকারি অবৈতনিক প্রাইমারি স্কুলে স্কুল বিমুখের সংখ্যা বেড়ে চলেছে তাদের স্কুল মূখী করার জন্য সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে এই বছরের প্রথমে তিনি পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের একটা আকর্ষণীয় শর্ত রাখেন যেসব পড়ুয়ারা নিয়মিত স্কুলে আসবে, ভালো করে পড়াশোনা করবে এবং শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে তাদের বইয়ের উশ্রী জলপ্রপাত দেখাতে নিয়ে যাবে অদ্ভুত ভাবে স্কুলে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়তে থাকলো এবং রবিবার সকালে স্কুলের ছয়জন পড়ুয়াদের নিয়ে নিজের পয়সায় উশ্রী জলপ্রপাত দেখাতে নিয়ে গেলাম এবং সেখান প্রাকিতিক পরিবেশে অংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং সেখানে সবাইকে পুরস্কৃত করা হয়। বৃষ্টি বাউড়ী, সীমা গড়াই, প্রিয়াঙ্কা মুখার্জি, তনুশ্রী গড়াই, বিশ্বজিৎ গড়াই এবং রামকৃষ্ণ মন্ডল খুব খুশী এবং সারাদিন আনন্দ উপভোগ করেছে তাদের বলা হয় সারাবছর এইভাবে স্কুলে উপস্থিত হলে এবং ভালোভাবে পড়াশোনা করলে সামনের বছর আবারও বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। প্রধান শিক্ষিকা জানান বাচ্চাদের সরকারি স্কুল মূখী করার জন্য আরো কিছু পরিকল্পনা করা আছে যাতে গরীব পরিবারের সদস্যরা তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠায় পড়াশোনা করতে।

কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম বিধির প্রতিবাদ কংগ্রেসের / আসানসোলে লেবার কমিশনারের অফিসে স্মারকলিপি…..………আসানসোল, ১০ ডিসেম্বরঃ

পাবলিক নিউজ ডেস্ক আসানসোল:– সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় সরকার দেশে চারটি শ্রম বিধি বা কোড কার্যকর করেছে। এর প্রতিবাদে, বুধবার কংগ্রেসের তরফে আসানসোলে শ্রম কমিশনারের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কংগ্রেস নেতা শাহ আলম খান, প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি এবং অন্যান্য কংগ্রেস নেতা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা গত ২১ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জারি করা চারটি শ্রম বিধির বিজ্ঞপ্তির কপি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান।
এই বিষয়ে শাহ আলম বলেন, কংগ্রেস এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যকর করা চারটি শ্রম বিধির প্রতিবাদ করেছে। বছরের পর বছর সংগ্রামের পরে, শ্রমিকরা অনেক অধিকার অর্জন করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সেই অধিকার লঙ্ঘন করে চারটি শ্রম বিধি চালু করেছে। এর মাধ্যমে, শ্রমিকদের আবারও ১২ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করা হবে এবং শ্রমিকদের কোনও অধিকার থাকবে না। নিয়োগ কর্তারা চাইলে একসাথে একাধিক কর্মীকে বরখাস্ত করতে পারেন। তিনি আরো বলেন,  কংগ্রেস এদিন শ্রম কমিশনারের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। যাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে চারটি শ্রম বিধি বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে । আমরা এর পাশাপাশি এই সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তির একটি কপি পুড়িয়ে প্রতিবাদ করেছি।

কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা পঞ্চায়েত সদস্য / রানিগঞ্জে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ি আটকানোর অভিযোগ / প্রতিবাদে আসানসোলে রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ……….. রানিগঞ্জ ও আসানসোল, ১০ ডিসেম্বরঃ

পাবলিক নিউজ ডেস্ক আসানসোল :–আসানসোলের রানিগঞ্জ ব্লকের টিরাট গ্রামে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ি আটকানোর অভিযোগ উঠলো তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি ঘটে।
এরপরে, আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল অন্যান্য বিজেপি নেতা ও কর্মীদের নিয়ে আসানসোলে জিটি ও ১৯ নং জাতীয় সড়কের সংযোগস্থল কালীপাহাড়ি এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন। দেখানো হয় বিক্ষোভও। দুটি জায়গাতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক শাসক দলকে আক্রমণ করেন।
জানা গেছে, এদিন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল টিরাট এলাকায় ” পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই ” কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান। তিনি পরিদর্শন করার পাশাপাশি সেখানে তিনি এলাকার মানুষের সাথে দেখা করছিলেন। অভিযোগ সেই সময় অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ি আটকানো হয়।
বিজেপি বিধায়ক অভিযোগ করে বলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সদস্য সুবীর বন্দোপাধ্যায় তার লোকদের নিয়ে এলাকায় আসে। তিনি আমার সাথে অভদ্র আচরণ শুরু করেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি গত আড়াই বছর ধরে কোথায় ছিলাম? ঐ তৃণমূল নেতা আমার সামনে তৃণমূলের মহিলা কর্মীদের পাঠান। যারা এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে আমার গাড়ি আটকে রাখেন। রানিগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু তারা তৃণমূল কর্মীদের সাথে খুব নরমভাবে কথা বলে এবং আমাকে এলাকা থেকে জোর করে বার করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিজেপি বিধায়ক আরো বলেন, তৃণমূল যদি মনে করে থাকে যে তারা বিজেপি বিধায়কদের পথ আটকে বিজেপির মনোবল ভেঙে দিতে পারবে। তবে তা এখন আর হবে না। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আমার কারণেই এই এলাকায় অবৈধ বালির ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। তৃণমূল নেতাদের ক্ষোভের কারণ এটা। কারণ তারা সকল ধরণের অবৈধ কারবার থেকে টাকা পায়। ইতিমধ্যে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অবৈধ মাটি তোলার অভিযোগ উঠেছে। তিনি আরও বলেন, রেলের জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এই এলাকার মানুষ কোনও পরিষেবা পাননি। এই বক্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদের বিরক্ত করলেও, সত্য হল তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা এক একজন চোর। আমি এই দাবি করেই যানো।
এই বিষয়ে সুবীর বন্দোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি বিধায়ককে আটকানো বা তার সাথে অভদ্র আচরণ করা হয়নি। তার নিরাপত্তায় নিযুক্ত সিআইএসএফ কর্মীরা এলাকার মহিলাদের উপর গুলি চালানোর হুমকি দেয়। এর পরে, মহিলারা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। সুবীরবাবু বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে এদিন এলাকা পরিদর্শন এবং নিম ধাওড়ায় যাওয়ার অভিযোগ করেন, যেখানে অবৈধ মাটি ব্যবসা চলছিল। তিনি অবৈধ ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করেন। এরপর, তিনি গড়গড়ডাঙ্গায় এসে স্থানীয় মহিলাদের সাথে অত্যন্ত অভদ্র আচরণ করেন। তার নিরাপত্তায় থাকা সিআইএসএফ কর্মীরা মহিলাদের উপর গুলি চালানোর হুমকি দেন। বিজেপি বিধায়কের অবৈধ বালি ব্যবসা বন্ধ করার দাবির বিষয়ে সুবীর বন্দোপাধ্যায় বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভুল। বিজেপি বিধায়ক নন, আমি এই এলাকায় অবৈধ বালি ব্যবসা বন্ধ করেছি। এই এলাকায় যা কিছু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তা হয় জেলা পরিষদ ও এই এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস বন্দোপাধ্যায়ের কারণে হয়েছে। কিন্তু এদিন যখন বিজেপি বিধায়ক তাপস বন্দোপাধ্যায়ের সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলেন, তখন এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হন।
এদিকে এই এলাকার কিছু মহিলারা বলেন, বিজেপি বিধায়ক আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি।

দুর্গাপুরে এসবিএসটিসির প্রধান কার্যালয়ে শাসক দলের ঠিকা কর্মী সংগঠনের ধর্ণা অবস্থান…………. দুর্গাপুর, ১০ ডিসেম্বরঃ

পাবলিক নিউজ ডেস্ক দূর্গাপুর:– দুর্গাপুরে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন কর্পোরেশন বা সংস্থার এসবিএসটিসির প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত এসবিএসটিসি এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন ও কন্ট্রাক্টর্স শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে বুধবার রিলে ধর্ণা অবস্থান হয়। শ্রমিক সংগঠনের অফিস থেকে মিছিল করে কার্যালয়ে প্রবেশ করে পতাকা উত্তোলন করা হয়।
শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা ধর্না মঞ্চে বসে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিবহন কর্পোরেশনগুলির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের নীতিকে সমর্থন জানালেও কর্তৃপক্ষের ভূমিকার বিরুদ্ধেই মূলতঃ এদিনের আন্দোলন বলে আইএনটিটিইউসির অন্যতম রাজ্য সম্পাদক প্রতাপ বসু জানিয়েছেন।

আসানসোল গার্লস কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন………….. আসানসোল, ১০ ডিসেম্বরঃ

পাবলিক নিউজ ডেস্ক আসানসোল:– আসানসোল গার্লস কলেজে বুধবার কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কলেজের ছাত্রীরা ফুটবল সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতা উপলক্ষে হওয়া এক অনুষ্ঠান আসানসোলের কাজি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ উদয়ন বন্দোপাধ্যায় , কলেজের অধ্যক্ষা ডঃ স্বাতী চক্রবর্তী , আইকিউএসি ডিরেক্টর বীরু রজক, বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, অধ্যাপিকা এবং কলেজের পড়ুয়ারা উপস্থিত ছিলেন। প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি ফুটবলে কিক করে মেয়েদের ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। কলেজের এনসিসি ছাত্রীদের মার্চ পাস্টের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপরে কলেজের পতাকা উত্তোলন করা হয়। সাংবাদিকদের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উদয়ন বন্দোপাধ্যায় বলেন, আসানসোল গার্লস কলেজ তার ৭৫ তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে দেখে আনন্দিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খেলাধুলো শিক্ষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সুস্থ শরীর ও একটি প্রাণবন্ত মন গড়ে তুলতে পারে। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ভারতীয় মেয়েরা আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রীড়ায় ভারতের গৌরব বয়ে এনেছে। এটি প্রমাণ করে যে ভারতীয় মেয়েদের মধ্যে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। আসানসোল গার্লস কলেজ এদিন তাদের জন্য একটি ভালো সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি এর জন্য আসানসোল গার্লস কলেজের প্রশংসা করেন। কলেজের অধ্যক্ষা ডঃ স্বাতী চক্রবর্তী বলেন, আসানসোল গার্লস কলেজ ৭৫ বছর পূর্ণ করেছে। আসানসোল গার্লস কলেজ সবসময় এখানকার পড়ুয়াদের শিক্ষাগত উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিবেশে, শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রীদের স্বাস্থ্যের উপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, খেলাধুলার দিকেও মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এই প্রতিযোগিতায় ছাত্রীদের প্রদর্শিত প্রতিভা প্রমাণ করে যে যদি তাদের সঠিক সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তারা কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরে সমগ্র দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারে। প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসও কলেজে এই ধরণের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই আয়োজন মেয়েদেরকে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেবে।