পুলিশের মানবিকতায় বাঁচল এক ছাত্রের বছরঅরিজিনাল অ্যাডমিট কার্ড ভুলে যাওয়ায় বিপাকে পরীক্ষার্থী, তৎপরতায় উদ্ধার আসানসোল পুলিশের

পাবলিক নিউজঃ আলোক চক্রবর্তী আসানসোল : সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই পুলিশের প্রতি নানা নেতিবাচক ধারণা কাজ করে। কিন্তু আমরা অনেক সময় ভুলে যাই, পুলিশকর্মীরা দিনরাত ডিউটিতে থাকেন বলেই আমরা নিজেদের ঘরে ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপদে থাকতে পারি। পুলিশের সেই মানবিক ও দায়িত্বশীল রূপেরই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সামনে এল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন।
বর্তমানে সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। এথোড়া এলাকার বাসিন্দা সায়ন চট্টোপাধ্যায়ের পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে আসানসোলের ধাধকা এলাকার এন সি লাহিড়ী স্কুলে। পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষা দিতে কেন্দ্র পৌঁছনোর পর সায়ন বুঝতে পারেন, তিনি ভুলবশত অরিজিনাল অ্যাডমিট কার্ড বাড়িতেই রেখে এসেছেন। তাঁর কাছে ছিল শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ডের একটি ফটোকপি।
সেই সময় হাতে আর এতটুকু সময় ছিল না যে তিনি এথোড়ায় বাড়ি গিয়ে আবার ফিরে আসতে পারবেন। এক মুহূর্তে তাঁর মনে হয়, সামান্য একটি ভুলের জন্য হয়তো তাঁর গোটা একটি বছর নষ্ট হয়ে যাবে। চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের কাছে সাহায্য চান।
পুলিশ আধিকারিকরা তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আশ্বস্ত করেন যে তাঁকে চিন্তা করতে হবে না। এরপর তাঁরা সায়নকে নিয়ে গাড়িতে করে এথোড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এন সি লাহিড়ী স্কুল থেকে এথোড়ার দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার।
পথেই পুলিশকর্মীরা সায়নের মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানান, তিনি যেন অরিজিনাল অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে বাড়ির বাইরে প্রস্তুত থাকেন। পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী সায়নের মা অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। পুলিশ গাড়ি পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দ্রুত ছেলের হাতে অরিজিনাল অ্যাডমিট কার্ড তুলে দেন।
এরপর পুলিশকর্মীরা আর সময় নষ্ট না করে সায়নকে নিয়ে পুনরায় স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। পুলিশের এই তৎপরতা ও মানবিক উদ্যোগের ফলে সায়নের একটি বছর নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
ঘটনা সম্পর্কে সায়ন বলেন, “একটি ছোট ভুলের জন্য যখন মনে হচ্ছিল আমার পুরো বছরটাই নষ্ট হয়ে যাবে, ঠিক তখনই পুলিশকর্মীরা দেবদূতের মতো আমার পাশে দাঁড়ান। তাঁদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। পুরো পুলিশ বিভাগের প্রতি আমার আন্তরিক ধন্যবাদ রইল।”
সায়নের বাবা শান্তনু চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ছেলের অরিজিনাল অ্যাডমিট কার্ড ভুলে যাওয়ার কথা জানতে পেরে তিনি ভীষণ চিন্তায় পড়ে যান। নিজের পক্ষে তখন দ্রুত গিয়ে অ্যাডমিট কার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি প্রায় ধরে নিয়েছিলেন, ছেলের একটি বছর হয়তো নষ্ট হয়ে যাবে।
কিন্তু পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তিনি বলেন, “যেভাবে পুলিশ আমার ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁদের ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার কাছে নেই।”
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হল, দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিকতার ক্ষেত্রেও পুলিশ সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *