পাবলিক নিউজঃ আলোক চক্রবর্তী আসানসোল:
আসানসোল পুরনিগমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২২১ নম্বর বুথের অন্তর্গত কালীফাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রায় ছয় দিন আগে এই এলাকায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে দু’জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে একজনের নাম রাজ গুপ্ত বলে জানা গেছে, অপর একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় পাকা রাস্তা না থাকায় দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ পর্যন্ত কাঁধে করে প্রায় ৭০০ মিটার দূরে জাতীয় সড়ক (এনএইচ) পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। তাঁদের মতে, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বহু বছর ধরে তারা এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এলাকার বাসিন্দারা আরও জানান, কিছুদিন আগে এক গর্ভবতী মহিলার প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে জাতীয় সড়কের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথেই রাস্তার মধ্যে তার প্রসব হয়ে যায়। বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় যদি সঠিক রাস্তার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে সময়মতো তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় না হয়েছে রাস্তা, না হয়েছে নিকাশি নালা, এমনকি পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থাও নেই। বহুবার এই বিষয়ে এলাকার কাউন্সিলর ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, এই সমস্যার কথা রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটককেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ১০ বছর কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় এবং প্রায় প্রতি বছরই সাপের কামড়ের ঘটনাও ঘটে। অনেক সময় সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এক সমাজকর্মী। তিনি বাসিন্দাদের আশ্বাস দেন যে তাঁদের সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে তুলে ধরা হবে এবং সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি সরকার পরিবর্তন হয়, তাহলে প্রথমেই এই এলাকায় রাস্তা নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা রাস্তা, নিকাশি নালা ও স্ট্রিট লাইটের মতো মৌলিক পরিষেবার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন। এখন তাঁদের আশা, দ্রুতই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *