
পাবলিক নিউজঃ আলোক চক্রবর্তী পাণ্ডবেশ্বর:পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র এ বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত ভোটের তারিখ ঘোষণা হয়নি, প্রার্থীদের নামও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়নি। তবুও এলাকায় রাজনৈতিক পরিবেশ ইতিমধ্যেই তপ্ত। এর প্রধান কারণ—সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া অভিনব ‘মিম ওয়ার’, যা নির্বাচনী লড়াইকে দিয়েছে এক ডিজিটাল রূপ।
পাণ্ডবেশ্বরে প্রাক্তন বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবং বর্তমান বিধায়ক নরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী-র সমর্থকদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বাকযুদ্ধ দেখা যাচ্ছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দুই পক্ষের সমর্থকেরা একে অপরকে লক্ষ্য করে মিমের মাধ্যমে কটাক্ষ ছুঁড়ছেন।
এই মিমগুলিতে কখনও উন্নয়নের প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কখনও ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিশানা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ‘মিম যুদ্ধ’ শুধুমাত্র বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে অত্যন্ত কৌশলী উপায়ে রাজনৈতিক বার্তাও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ডিজিটাল লড়াই আসন্ন নির্বাচনের ইঙ্গিতও বহন করতে পারে। যুব সমাজের বাড়তি অংশগ্রহণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিস্তৃত প্রভাব নির্বাচনী প্রচারের ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এক সময় পোস্টার, ব্যানার ও জনসভা ছিল প্রধান অস্ত্র; এখন মিম ও ভাইরাল পোস্টও সমান কার্যকর হয়ে উঠেছে।
তবে এই ‘মিম ওয়ার’ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, এটি যদি সীমার মধ্যে থাকে, তবে তা গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের অংশ। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ভুয়ো তথ্য ছড়ালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, পাণ্ডবেশ্বরে ভোটের আনুষ্ঠানিক দামামা বাজার আগেই ডিজিটাল রণক্ষেত্র প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, এই ‘মিম ওয়ার’ বাস্তব নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।










